আপনার সন্তান কার্টুনের রূপে যেগুলো দেখছে, সেগুলি কী জানেন?
এই তো কয়েক
দিন আগেই ইন্দোনেশিয়াতে এক ভাইকে গ্রাফতার করা হয়েছে তাঁর বোনের সঙ্গে যৌন সঙ্গম করতে
দেখে। অন্যদিকে লন্ডনে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বছর ৩৬ এর শিক্ষিকা।
রোজ টিউশনের নাম করে তার সঙ্গে যৌন মিলন করতো এই শিক্ষিকা। আসলে এ সবের পেছনে দায়ি
হলো বর্তমানের নতুন পর্নোগ্রাফির ট্রেন্ড। যাঁর মধ্যে কার্টুন ভিত্তিক পর্নোগ্রাফি
বা অ্যানিমে অন্যতম।
সমাজকে সকল
দিক থেকে ধ্বংস করার জন্য সকল খারাপ দিককে কেন্দ্র করেই অ্যানিমে নির্মিত হচ্ছে। একেকটি
প্রজাতি একেকটি খারাপ, কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল দিকের উপর প্রাধান্য দিয়ে আনিমে প্রকাশ
করে। আমাদের সহজ সরল কোমলমতি শিশু-কিশোররা না বুঝে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রজাতির আনিমে
দেখে এবং নিজেদেরর মনুষ্যত্বের বিসর্জন দেয়। তাই সচেতন নাগরিক-সমাজ হিসেবে আমাদের কর্তব্য
হল সকলকে এই খারাপ প্রজাতিগুলো সম্পর্কে অবগত করা এবং আনিমে থেকে দূরে রাখার চেষ্টা
করা।
আমরা বিভিন্ন
অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়ে সকল প্রজাতিকে ৩টি ভাগে ভাগ করেছি। প্রথম ভাগে আলোচিত হবে
সর্ব নিকৃষ্ট প্রজাতিগুলো, যেগুলো মানবতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা সৃষ্টি করে। অপেক্ষাকৃত
কম বিপদজনক প্রজাতিগুলো তাদের বিপদসীমা অনুযায়ী দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে আলোচিত হবে।
ভাগ ১ :
(প্রথম মহা-বিপদজনক প্রজাতি)
১। হেনতাই(Hentai)
: এটি সর্ব নিকৃষ্ট, অশালীন এবং কুরুচিপূর্ণ কার্টুন। এটি অ্যানিমের মাধ্যমে পর্ণগ্রাফি
প্রচার করে। এসব অ্যানিমেতে কোন আড়াল ছাড়া স্পষ্টভাবে মানবদেহের গোপন অঙ্গসমূহ এবং
তাদের অশ্লীল কার্যকলাপ দেখান হয়। এটা নিষ্পাপ কিশোর-কিশোরীদের মনে খারাপ চিন্তার উদ্ভব
ঘটায় এবং তাদের হস্তমৈথুন ও হস্তমর্দনে আগ্রহী করে তোলে যা স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক
ক্ষতিকর। এক জরীপে দেখা গেছে অল্পবয়স্ক এইডস আক্রান্ত রোগীদের সিংহভাগই এই প্রজাতির
অ্যানিমে থেকে খারাপ কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলো। তাই এটিই আমাদের গবেষণায় সর্ব বিপদজনক
প্রজাতি হিসেবে নির্বাচিত।
২। এচি(Ecchi)
: এটি হেনতাই এর মতই, কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম বিপদজনক। এখানে মানবদেহের অতি অশ্লীল গোপনাঙ্গগুলো
আড়াল করা হয় এবং অন্যান্য অশ্লীলতাগুলোর বেশিরভাগই কমেডি আকারে প্রকাশ করা হয়। ঘন ঘন
প্যানটি শটস, আবরণহীন স্তন এবং গ্রোপিং দেখিয়ে এটি বিনোদনকে সর্বনিম্নস্তরে নামিয়ে
দেয়। নারীদেহের সংবেদনশীল অঙ্গগুলোকে এখানে ফোকাস করা হয়। কিশোর-কিশোরীদের বিপথে নিতে
এটিও একইভাবে দায়ী।
৩। ইউরি(Yuri)
: এই প্রজাতির অ্যানিমে রচিত হয় নারী ও নারীর মধ্যে সমকামিতার সম্পর্ক নিয়ে। মেয়েদের
সমকামিতাকে সম্পূর্ণভাবে দেখিয়ে মানুষকে এটি মিথ্যা ও অশ্লীল আনন্দ প্রদান করে। মেয়েদের
সমকামিতায় উদ্বুদ্ধ করে, সমাজের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে এবং মানুষের ধর্ম নষ্ট করে।
৪। ইয়াওই(Yaoi)
: এটি ইউরির বিপরীত। এটি পুরুষে-পুরুষে সমকামিতার সম্পর্ক স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। বিশেষত
নারীসমাজকে বিপথে নিতে এটি অত্যন্ত কদর্য ভূমিকা পালন করে। এসব আনিমে অনেকক্ষেত্রে
পুরুষদের বমির উদ্রেক ঘটায় যা তাদের স্বাস্থ্যহানির সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
৫। শৌজো-আই(Shoujo
Ai) : এটি মেয়ে-মেয়ের মধ্যে প্রেম ভালোবাসার নিকৃষ্টতা প্রকাশ করে কিন্তু ইউরির মত
অতটা নিয়ন্ত্রনহীন নয়। কিন্তু এর থেকেই সমকামিতার সূচনা হয়, তাই বিপদসীমায় এটি মোটেই
অগ্রাহ্যের কিছু নয়।
৬। শৌনেন-আই(Shounen
Ai) : এটি পুরুষে-পুরুষে প্রেম ভালোবাসা প্রচার করে। ছেলেদের সমকামিতাও এখান থেকেই
শুরু হয়।
৭। হারেম(Harem)
: এই প্রজাতির আনিমে মানুষকে লাম্পট্য শেখায়। হারেম আনিমেতে একাধিক নারীর সঙ্গে একটি
পুরুষকে সম্পর্ক তৈরি করতে দেখা যায়। এটা পরোক্ষভাবে পুরুষদের বহুবিবাহ ও রক্ষিতা রাখায়
উদ্বুদ্ধ করে। অনিয়ন্ত্রিত মিলনের ফলে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এসব আনিমে
পুরুষদের প্রতারক হওয়ার শিক্ষা দেয়। প্রতারিত নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রকোপ বৃদ্ধি
পায়।
৮। রিভার্স
হারেম(Reverse Harem) : এই আনিমেতে একজন নারীর পেছনে একাধিক পুরুষকে ঘুরতে দেখা যায়।
হারেম আনিমের মতই একইভাবে এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন করে। একজন নারী থাকায় এটি
দেশের জনসংখ্যা তেমন বৃদ্ধি করতে পারে না, তবে এইডস এর ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
১০। ইনসেস্ট(Incest)
: যদিও এটি কোনও আলাদা প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি কিন্তু তারপরও এটিকে কেন্দ্র
করে অনেক অ্যানিমে নির্মিত হয়েছে। ভাই-বোনের মধ্যে অশ্লীল শারীরিক সম্পর্কই হচ্ছে ইনসেস্ট।
এটি সমাজের সর্বোচ্চ অশ্লীলতাগুলোর একটি। এসব আনিমে দর্শকসমাজে অত্যন্ত ঘৃণার উদ্রেক
ঘটায়, তবে অনেক ক্ষেত্রে এর থেকে ভাই-বোনেরা নিজেদের মধ্যে অশ্লীল সম্পর্ক স্থাপনে
আগ্রহী হয়, যা ধর্ম ও মানবতার চরম অপমান। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুসারে ভাইবোনের মধ্যে
সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী হয়, যা মানবসম্পদ সৃষ্টির
সামনে বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন